Thursday, February 16, 2017

রুক্ষ শুষ্ক চুলের জন্যে নিজেই তৈরি করুন হেয়ার সিরাম


রুক্ষ শুষ্ক চুলের জন্যে নিজেই তৈরি করুন হেয়ার সিরাম

আবহাওয়া, ধূলো, ময়লা, অযত্ন ইত্যাদি কারণে আমাদের চুল প্রাণ  হারিয়ে ফেলে। ফলে চুল হয়ে যায় রুক্ষ- শুষ্ক। ভালোমানের শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহারের পরেও চুল সেই আগের মতো হয়ে ওঠে না। আর চুল সুন্দর, শাইনি এবং রুক্ষতা দূর করতে ব্যবহার করা হয় হেয়ার সিরাম।
বাজারে বিভিন্ন ধরনের হেয়ার সিরাম রয়েছে। এটি এমন একটি হেয়ার প্রোডাক্ট, যা ইন্সট্যান্টলি রুক্ষ-শুষ্ক চুলকে করে দেয় শাইনি এবং সফট। অনেকেই আছেন, আঁচড়াতে গেলেই  জট বাধার কারণে প্রচুর চুল পড়ে যায়। তাদের জন্যে হেয়ার সিরাম ম্যাজিকের মতো কাজ করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে হেয়ার সিরাম কেনা হয়ে উঠছে না। তাই তো?  তাহলে চলুন,খুব সহজেই ঘরে বসেই বানিয়ে নেই হেয়ার সিরাম।
যা যা লাগবে
(১) ক্যাস্টর অয়েল
(২) কোকোনাট অয়েল
(৩) অ্যালোভেরা জেল
(৪) গোলাপ জল (ঘরে গোলাপ জল কীভাবে তৈরি করবেন
(৫) ছোট পাম্পসহ বোতল
যেভাবে তৈরী করবেন:

এই হেয়ার সিরাম তৈরি করা খুবই সহজ এবং একদম কম সময় লাগবে। প্রথমে,  একটি বাটিতে ২ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল, হাফ টেবিল চামচ কোকোনাট অয়েল, ১ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল, ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল নিন। একটি চামচের সাহায্যে ৪ টি উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
দ্বিতীয় ধাপে ওই মিশ্রণে আরো ১ টেবিল চামচ গোলাপ জল যোগ করুন। ভালোভাবে মেশাতে থাকুন, যাতে প্রত্যেকটি উপকরণ একটি অন্যটির সাথে খুব ভালোভাবে মিশে যায়। মিশ্রণটি ঘন পেস্টের মতো হবে। মেশানো হয়ে গেলে একটি ছোট পাম্পসহ বোতলে মিশ্রনটি ভরে নিন।
ব্যস, আপনার হেয়ার সিরাম তৈরী।
কীভাবে ব্যবহার করবে, তা জেনে নিন-
- শ্যাম্পু করার পর চুল শুকিয়ে নিন। অনেকে ভেজা চুলেও সিরাম ব্যবহার করে থাকেন। তবে এই সিরামটির ক্ষেত্রে শুকনো চুলেই ব্যবহার করা ভালো।
- শুকনো চুলগুলো আঁচড়ে নিয়ে ২ টি ভাগে ভাগ করে নিন।
- এবার হেয়ার সিরামের বোতল থেকে ১/২ পাম্প (চুলের লম্বা এবং ঘনত্ব অনুযায়ী)  হেয়ার সিরাম নিন। এটি দুই হাতের তালুতে ঘষে একটু ওয়ার্ম করে নিন।
- চুলের মাঝ বরাবর থেকে আগা পর্যন্ত হালকা হাতে ম্যাসাজ করে লাগিয়ে নিন।
- হেয়ার সিরাম লাগানো হয়ে গেলে আপনি নিজেই পার্থক্য দেখতে পাবেন। আপনার রুক্ষ-শুষ্ক চুল হয়ে গেছে সুন্দর,মসৃন এবং শাইনি।
এই তো, জেনে নিলেন কীভাবে ঘরে বসেই তৈরি করতে পারবেন হেয়ার সিরাম। এবারে চটজলদি নিজেই বানিয়ে নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন নিজের তৈরি হেয়ার সিরাম।
ছবি – বিউটিহ্যাকস ডট কম
লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

মাত্র ৫টি উপাদানে হাতে তৈরি মাইল্ড শ্যাম্পু!

মাত্র ৫টি উপাদানে হাতে তৈরি মাইল্ড শ্যাম্পু!

চুলের তেল, ময়লা এবং ধুলো পরিষ্কার করতে আমরা সবাই ই শ্যাম্পুর আশ্রয় নিই। শ্যাম্পু চুলকে পরিষ্কার এবং ঝরঝরে করে তোলে। কিন্তু শ্যাম্পুতে থাকে অনেক ধরনের কেমিক্যাল। যা অতিরিক্ত ব্যবহারে চুলের স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যায়। যার ফলে, চুল রুক্ষ-শুষ্ক হয়ে যায়, চুল ভেঙে যায়।  তাই আজ জানাবো, রুক্ষ-শুষ্ক চুলের জন্যে কীভাবে ঘরে বসেই ন্যাচারাল শ্যাম্পু বানাবেন। এই শ্যাম্পু সম্পূর্ণ ন্যাচারাল উপাদানে তৈরি বলে এতে চুলের ক্ষতি হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও এই শ্যাম্পুটি চুলের গ্রোথ বাড়াবে, চুল অনেক সফট এবং শাইনি করে তুলবে।
ঘরে তৈরি এই মাইল্ড শ্যাম্পুটি তৈরি করতে যেসব উপাদান হাতের কাছে থাকা চাই - 

  • আমলকী ( ১০০ গ্রামের মতো ড্রাই আমলকী লাগবে। আমলকীতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা চুলের আসল রঙ ফিরিয়ে আনে এবং চুল ঘন করে তোলে।)
  • রিঠা  (৫০ গ্রাম রিঠা লাগবে। আপনি চাইলে রিঠা পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন। রিঠা একটি মাইল্ড ক্লিঞ্জার হিসেবে পরিচিত। এটা চুলের ময়লা দূর করে এবং চুল পরিষ্কার এবং ফ্রেশ করে তোলে। এছাড়াও এতে  অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান রয়েছে।)
  • শিকাকাই (আমাদের ১০০ গ্রাম শিকাকাই লাগবে। এটিও চাইলে পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। শিকাকাই চুলের জন্যে খুবই উপকারী।  এটি চুলের গ্রোথ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং চুলকে শাইনি করে তোলে।)
  • নারিকেল (প্রায় অর্ধেকটা তাজা নারিকের দরকার পড়বে। নারিকেল রুক্ষ চুলকে ডিপ কন্ডিশনিং করবে। চুলকে সফট এবং শাইনি করে তুলবে।)
  • তুলসী (৮-১০ টা ডালসহ তুলসী পাতা লাগবে। তুলসীতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। যা চুলকে সুন্দরভাবে পরিষ্কার করবে এবং খুশকির বিরুদ্ধেও লড়বে।)
যেভাবে তৈরি করবেন- 
(১) প্রথমে রিঠা ভেঙে নিয়ে এর বীজ বের করে ফেলে দিতে হবে। এবার একটা লোহার পাত্রে রিঠা, শিকাকাই এবং ড্রাই আমলকী নিয়ে ১ লিটার পানি দিয়ে ৮ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। আপনারা যদি পাউডার রিঠা এবং শিকাকাই ব্যবহার করেন, সেটিও ঠিক একইভাবে ভিজিয়ে রাখবেন। ৮ ঘন্টা পরে আপনি দেখতে পাবেন যে, পানির রঙের পরিবর্তন হয়েছে এবং সব উপকরণ অনেক নরম হয়ে গিয়েছে।

(২) নারিকেলটা কুঁড়ে নিতে হবে। চাইলে এটা হালকা ব্লেন্ডও করে নিতে পারেন। 

(৩) এবার একটা বড় তলা ভারি প্যান চুলায় দিয়ে দিন। এর মধ্যে রিঠা, শিকাকাই এবং আমলকী ভেজানো (পানিসহ) দিয়ে দিন। এর মধ্যে কোড়ানো নারিকেল এবং তুলসী দিয়ে দিন। তুলসী পাতা এবং ডালসহ দিবেন। 

(৪) একটি চামচের সাহায্যে সবকিছু সুন্দরভাবে মিশিয়ে দিন। আঁচ মিডিয়াম রাখুন। ৫ মিনিট পরেই দেখবেন মিশ্রণটির রঙ পরিবর্তন হয়েছে। এভাবে ২০ মিনিটের মতো জ্বাল দিতে থাকুন। ২০ মিনিট পর চুলা বন্ধ করে দিন এবং মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন।
(৫) ঠান্ডা হলে, হাত দিয়ে সমস্ত উপকরণ ভালোভাবে কচলে নিন। 

(৬) এবার, একটি ছাকনীতে ছেঁকে ঘন জুসটা আলাদা করে নিন। এই ঘন জুসটাই আপনার ন্যাচারাল শ্যাম্পু। এবার জুসটাকে একটা বোতলে ভরে নিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। এটি ৮-১০ দিন ভালো থাকবে।
এই শ্যাম্পুটি মাইল্ড হওয়ায়, আপনি সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যবহার করতে পারবেন। এটি ছোটদের জন্যেও ভালো হবে। এই তো জেনে নিলেন, কীভাবে রুক্ষ- শুষ্ক চুলের জন্যে কেমিক্যাল মুক্ত ন্যাচারাল শ্যাম্পু তৈরি করবেন। আশা করছি, আপনাদের অনেক বেশি হেল্প হবে। ভালো থাকুন।
ছবি – ডিআইওয়াইন্যাচারাল  ডট কম
লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের যত্নে ৫টি জাদুকরি তেল

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের যত্নে ৫টি জাদুকরি তেল

ঘন কালো চুলের কদর আলাদাই। বাহ্যিক সৌন্দর্যের অনেকটাই নির্ভর করে ঝলমলে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের উপর। এক গোছা ঝলমলে চুলের যত্নে তেলের বিকল্প নেই। কিন্তু আজকাল দূষণ আর ভেজালের কারণে চুলের যত্নে কার্যকরী তেল খুঁজে পাওয়াটা বেশ মুশকিল হলেও  অসম্ভব নয়। আজ জানাব ঘন, কালো চুলের যত্নে ৫টি জাদুকরি তেল  সম্পর্কে। যা  ভেতর থেকে চুলকে পুষ্টি যোগাবে। এই তেলগুলো কেবল যে চুলের যত্নেই ব্যবহার করতে পারবেন তা নয় চাইলে ত্বকের যত্নেও চাইলে ব্যবহার করতে পারবেন।
চুলের যত্নে নারকেল তেলের ব্যবহার প্রাচীনকাল থেকেই হয়ে আসছে। তবে চুলের যত্নে রিফাইন্ড নারকেল তেলের থেকে এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল বেশি উপকারি। নতুন চুল গজাতে এই তেলের সাথে ক্যাস্টর অয়েল মিক্স করে স্কাল্পে লাগান কমপক্ষে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা রাখুন এরপর ধুয়ে ফেলুন। কন্টিনিউয়াজলি ২ থেকে তিন মাস ব্যবহারে ফল পেতে শুরু করবেন।
Capture
স্কিন ক্যাফে অরগানিক এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েল  ২৫০ মি. লি. মূল্য – ৬০০ টাকা ।
হালকা খয়েরি রঙা আর ঘন টেক্সচারের এই তেলের নিয়মিত ব্যবহার চুলের ওপর একটি প্রটেক্টিভ লেয়ার তৈরি করে, যাতে করে বাইরের ধুলাবালি আর দূষণে সৃষ্ট ক্ষতি থেকে চুল রক্ষা পায়। আমার চুল পড়া কমিয়ে চুলের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে দিতে একদম ম্যাজিকের মতো কাজ করে। শুষ্ক চুলের ডিপ কণ্ডিশনিং এর জন্য ৩-৪ চামচ তেল স্কাল্প আর পুরো চুলে দিয়ে নিন, ২ ঘণ্টা রেখে কোন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
jamaican-black-castor-oil
ট্রপিক্যাল আইল লিভিং জ্যামাইকান ব্ল্যাক ক্যাস্টর অয়েল  ১১৮ মি. লি. এর দাম পড়বে ১৩৫০ টাকা ।
ডেমেজড এবং ডাই করা চুলে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে এই তেলটির জুড়ি নেই। যাদের চুলে একটু এক্সট্রা কেয়ারের প্রয়োজন তারা এই তেলটি নিয়মিত ব্যবহারে চুলের হারিয়ে যাওয়া সাইন ফিরে আসবে। সপ্তাহে ১ দিন এক্সট্রা ভার্জিন কোকোনাট অয়েলের সাথে কয়েক ফোটা আরগান অয়েল মিক্স করে স্ক্যাল্পে এবং চুলে লাগান। সারা রাত রাখতে পারেন অথবা ২ ঘণ্টা রেখে মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
argan-oil
স্কিন ক্যাফে আরগান অয়েলের দাম পড়বে ১৫৫০ টাকা।
তেলটি সম্পূর্ণ আয়ুর্বেদিক উপাদানে তৈরি করা হয়েছে। এতে কোন রকম কেমিক্যাল বা ক্ষতিকারক উপাদান নেই। চুল ও মাথার ত্বকের জন্য উপকারী ও কার্যকরী উপাদান সমূহের সাথে যুক্ত হয়েছে দূর্লভ কিছু হার্ভ। এদের সঠিক মাত্রার ব্যবহারে চুল পড়া কমে ও নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। তেলটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই যা নিস্তেজ চুলকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তেলটি সামান্য গরম করে পুরো মাথায় লাগিয়ে ওয়ার্ম টাওয়েলে বা শাওয়ার ক্যাপে মুড়ে রাখতে হবে এবং ১৫-৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। চুলের আগা ফাটা রোধ করতে প্রতি রাতে চুলের ডগায় ব্যবহার করুন।
doo-gro®-stimulating-growth-oil
১৩৫ মি. লি. ডু গ্রো হেয়ার গ্রোথ স্টিমিউলেটিং অয়েলের   মূল্য – ১৪০০ টাকা।
অতিরিক্ত ড্রাইনেস থেকে জন্ম নেয়া খুশকি চুলের গোরা নরম করে এবং যার ফলে চুল পড়তে শুরু করে। জোজবা অয়েল নিয়মিত ব্যবহারে চুল পড়া কমে। এটি  স্কাল্পের ড্রাইনেস কমানোর সাথে সাথে চুলকে ভেতর থেকে ময়েশ্চারাইজ করে তুলে। জোজবা তেল সপ্তাহে ২-৩ বার চুল ও স্ক্যাল্পে তেল ম্যাসাজ করে সারা রাত রাখুন, চুলের ধরন তৈলাক্ত হলে শ্যাম্পু করার ঘণ্টা খানেক আগে লাগালেই চলবে।
jojoba-oil
ম্যাপল হলিস্টিক্স জোজবা অয়েলের মূল্য – ১৯৫০ টাকা

গজাবে নতুন চুল

গজাবে নতুন চুল

মাথার অন্যতম সৌন্দর্য হলো চুল। কিন্তু সেই চুল নিয়ে তো আমাদের কতো সমস্যা। চুল পড়ে যাচ্ছে, টাক হয়ে যাচ্ছি, এইসব অহরহ শোনা যায় প্রায় সবার মুখেই। অনেকে এই সমস্যা নিয়ে মুষড়ে পড়ছেন।  আর চুল পড়া কমাতে তো এটা ওটা ট্রাই করতেই থাকেন। কিন্তু চুল পড়া কমছেই বা কই?? অন্যদিকে, চুল পড়ে গিয়ে মাথা প্রায় খালি হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যার সমাধান আছে একটি হেয়ার রেমেডিতেই। এটি চুল পড়া তো কমাবেই। ঝরে যাওয়া চুলও গজাবে।

যা যা লাগবে- 
(১) ১ টি পেঁয়াজ 
পেঁয়াজে রয়েছে সালফার, যা চুলের জন্য অত্যন্ত উপকারী।  এটি মাথার ত্বকে ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ায়, চুলের গ্রন্থিকোষে পুষ্টি যোগায়। এছাড়াও এতে অ্যান্টি ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান রয়েছে, যা মাথার ত্বকের ইনফেকশন এবং ফাংগাস দূর করে। পেঁয়াজ চুলের গ্রোথ বাড়াতে এবং নতুন চুল গজাতে খুবই সাহায্য করে। এটি আমি নিজেই প্রমান পেয়েছি।
(২) ৪ টি কালো গোলমরিচ 
গোলমরিচে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ, সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে গোলমরিচ খুব কম পরিমানেই ব্যবহার করা উচিত।
(৩) ১ টি বড় সাইজের গোলাপ ফুল 
যে গোলাপগুলো দিয়ে গোলাপজল বানানো যায় সেই ধরনের লাল গোলাপ ব্যবহার করতে হবে। যাতে হালকা মিষ্টি সুগন্ধ রয়েছে। গোলাপ ফুল পেঁয়াজের রসের গন্ধ ঢাকতে সাহায্য করবে। এছাড়াও গোলাপের পাপড়ি হেয়ার গ্রোথ বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
যেভাবে তৈরি করবেন -
প্রথমে ৪ টি কালো গোলমরিচের দানা নিয়ে ১ টেবিল চামচ পানিতে সারারাত ভিজিয়ে রাখতে হবে। পেঁয়াজের খোসা ছাড়িয়ে পেঁয়াজটিকে ছোট ছোট ভাগে কেটে নিতে হবে। এবার একটি ব্লেন্ডারে কাটা পেঁয়াজ , কালো গোলমরিচ (পানিসহ), গোলাপের পাপড়ি একসাথে নিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ব্লেন্ড করা হয়ে গেলে একটি মসৃন পেস্ট তৈরি হবে। আপনি চাইলে এই পেস্ট সরাসরি  মাথায় লাগাতে পারেন। তবে ধোয়ার সময় ঝামেলা এড়াতে চাইলে, একটি ছাকনীতে পেস্টটুকু নিয়ে এর জুসটা ছেঁকে বের করে নিন।
ব্যবহার বিধি  
- চুলগুলো ভালোভাবে ব্রাশ করে নিন। এবার সেই জুসে একটি কটন বল ডুবিয়ে নিন এবং অতিরিক্ত জুসটুকু চেপে বের করে নিন। মাথায় সিথি কেটে কেটে কটন বলের সাহায্যে মাথার স্কাল্পে জুসটা লাগান। পুরো মাথার ত্বকে ব্যবহার করবেন এভাবে। 
- পুরো স্কাল্পে জুসটা ব্যবহার করা হয়ে গেলে, হাতের আঙ্গুলের সাহায্যে আস্তে আস্তে মাথার স্কাল্প ম্যাসাজ করুন অন্তত ৫ মিনিট।
- এরপর  ১ ঘন্টা রেখে দিন। ১ ঘন্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। শ্যাম্পুর  ক্ষেত্রে একটি  অবশ্যই মাইল্ড শ্যাম্পু (সালফেট বিহীন শ্যাম্পু) ব্যবহার করবেন। সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল পড়া কখনই কমবে না। 
- সপ্তাহে অন্তত ২ দিন এই জুসটি ব্যবহার করতে হবে কয়েক মাস ধরে।
অবশ্যই ধৈর্য ধরতে হবে। ২-৩ দিন ব্যবহার করে দেখলেন চুল উঠছে না, তো ব্যবহার বন্ধ করে দিলেন। তাহলে হবে না। ন্যাচারাল রেমেডিগুলো একটু সময় নেয় কাজ করতে। তাই ধৈর্য রাখতে হবে এবং ব্যবহার করে যেতে হবে। ১ -২ মাসেই দেখবেন মাথায় নতুন চুল উঁকিঝুঁকি মারছে। 
এই তো জেনে নিলেন চুল পড়া এবং নতুন চুল গজানোর উপায়। আশা করি ধৈর্য ধরে ব্যবহার করবেন এবং অবশ্যই ফল পাবেন। এটা আমার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজ করেছে। দেড় মাসেই আমি নতুন চুলের মুখ দেখতে পেয়েছি। আশা করছি আপনাদের অনেক সাহায্য হবে।
ছবি – অলরেমেডিজ ডট কম
লিখেছেন – জান্নাতুল মৌ

চুলের যত্ন ডিমের প্যাক

হেলদি ডায়েট-এ পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ডিমের ভূমিকা যেমন অতি গুরুত্ত্বপূর্ণ তেমনি আমাদের ত্বক আর চুলের ঝলমলে হেলদি ভাব রক্ষায়ও। কিন্তু ডিমের নানান ব্যবহার আছে যা একটু আধটু ঠিকঠাকভাবে অনুসরণ করলেই স্কিনের আর চুলের প্রায় সকল সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। রাফ, ফ্রিজি, পাতলা হয়ে যাওয়া, গোড়া নরম চুলের সমস্যা থেকেও যেমন মুক্ত থাকা যায় তেমনি মুখের ত্বকের দাগছোপ, ঝুলে পড়া স্কিন, ওপেন পোরস, ডালনেস ইত্যাদি থেকেও স্কিন থাকবে শত হাত দূরে যদি আপনি ডিমকে বানান আপনার স্কিন কেয়ার বন্ধু। ভাবছেন কীভাবে কি করবেন তাই তো? খুব সোজা কিন্তু!
শুধুই ডিমের প্যাক:
প্রথমেইএকটা ডিম নিয়ে এর কুসুমটি আলাদা করে ফেলুন। এইবার ডিমের সাদা অংশটাকে একটা বাটিতে নিয়ে কাটা চামচ দিয়ে ভালো করে ফেটান। যখন ডিম ফোম’এর মতো হয়ে যাবে তখন ফোমটুকু ভালো মতো পুরা মুখে অ্যাপ্লাই করুন। মনে রাখবেন, অ্যাপ্লাই করার আগে মুখ আর হাত ভালো করে ধুয়ে নিবেন। এবার ১৫ মিনিট পর যখন দেখবেন স্কিন টানটান লাগছে তখন কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলবেন। এই প্যাক স্কিন টানটান করবে। মুখের ওপেন পোরস দূর করবে খুব ভালো করে।
ডিমের পিল অফ মাস্ক:
ডিম আর টিস্যু পেপার দিয়ে খুব ভালো পিল অফ মাস্ক বানানো যায় যেটা স্কিনের মরা চামড়া এর সাথে সাথে ব্লাকহেডস আর হোয়াইটহেডস ও দূর করে কার্যকরভাবে। ২ টি ডিমের সাদা অংশ নিয়ে ফেটান ভালো মতন। এবার এই ফেটানো ডিম হাত বা ব্রাশের সাহায্যে মুখে এক পরত করে লাগান। এবার ফেসিয়াল টিস্যু নিয়ে মুখে লাগানো ডিমের ওপর চেপে চেপে লাগান। লাগানো হয়ে গেলে এর ওপর আরেক পরত ফেটানো ডিম লাগান। যখন শুকিয়ে আসবে মুখ টানটান হয়ে আসবে তখন পিল অফ মাস্ক এর মতন টান দিয়ে দিয়ে টিস্যু তুলে ফেলুন।খুব সিম্পল।
ডিম আর অ্যাভোকাডোর প্যাক:
 অ্যাভোকাডো ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল। স্কিনের আর চুলের হেলদি গ্লো আনতে এর জুড়ি নেই। দুইটা ডিমের কুসুম নিয়ে এর সাথে একটা অ্যাভোকাডোর অর্ধেকটা নিয়ে ভালো করে মিক্স করুন। এবার এর সাথে মিশান এক চামচ মধু। এই প্যাকটা মাথায় লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। এটি চুলে ডিপ কন্ডিশনিং এর কাজ দিবে। চুল ঝলমলে মসৃণ হবে, রাফনেস চলে যাবে, পাতলা চুল ঘন হবে।
ডিম আর টকদই প্যাক:
ডিমের কুসুমের সাথে টকদই মিক্স করে এর সাথে এক চা চামচ মধু (ইচ্ছা) মিশিয়ে চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগান। আধা ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। ড্রাই এবং ড্যামেজ চুল নিমেশে গায়েব হয়ে চুল হবে ময়েশ্চারাইজড আর কোমল।
ডিমের কুসুম ম্যাসাজ:
যদি বেশি কিছু করতে ইচ্ছে না করে সিম্পলি চুলের ঘনত্ব বুঝে ডিমের কুসুম নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে চুলের আগা থেকে গোড়া পর্যন্ত লাগিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর পাবেন রেশমি উজ্জ্বল ঝরঝরে চুল।
ডিম আর লেবুর রস:
যদি চান একী সাথে স্কিন হবে উজ্জ্বল, মরা চামড়া মুক্ত এবং ওপেন পোরস মুক্ত তাহলে ডিমের সাদা অংশটুকু নিয়ে এর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ফেটিয়ে ফোম বানান। এরপর মুখে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। যখনই স্কিনে টান অনুভব করবেন তখনই ধুয়ে ফেলুন। কিছুদিন করে দেখুন ম্যাজিকেরমতো স্কিনের সমস্যা দূর হয়ে যাবে।
ছবি – পিক্সাবে ডট কম
লিখেছেন -  সুমনা ফাল্গুনী

ত্বকের যত্ন, সৌন্দর্য পরামর্শ

অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে ত্বকের যত্ন খুব কমই নেয়া হয়। এরপর হঠাৎ আয়নায় নিজের মুখটা চোখে পড়তেই মনটা খারাপ হয়ে যায়। ত্বকে হাত দিলেই বঝা যায় কততা মলিন হয়ে গেছে, আগের উজ্জ্বলতা যেন কোথায় মিলিয়ে গেছে! তাই তো?  এমনটা মাঝে মধ্যেই হচ্ছে আমাদের  সাথে । তাই আজকে জানাবো, কীভাবে ত্বকের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনবেন।
বিট রুট ফেস মাস্ক তৈরি করতে যা যা লাগবে - 
(১) বিট রুট
এই ফেস মাস্কের প্রধান উপকরণ হলো বিট রুট। বিট রুটে রয়েছে ভিটামিন ই, সি এবং কে। এছাড়াও এতে অ্যান্টি-এজিং প্রোপার্টি রয়েছে। বিট রুট আমাদের ত্বকের আসল রঙ ফিরিয়ে আনে এবং ত্বকে পিংক গ্লো তৈরিতে সাহায্য করে। 
(২) টমেটো 
টমেটো আমাদের ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করে, পোরগুলো টাইট করে এবং স্কিনকে উজ্জ্বল করে তোলে।
(৩) কাঁচা দুধ
দুধে ল্যাক্টিক এসিড রয়েছে। এটি স্কিনকে গভীরভাবে ক্লিন করতে সাহায্য করে।
(৪) কমলার খোসার পাউডার 
কমলার খোসায় ভিটামিন সি রয়েছে। যা স্কিনকে উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে। (কমলার খোসার পাউডার না থাকলে চন্দন পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।)
(৫) বেসন
বেসন আমাদের স্কিনকে জেন্টলি স্ক্রাবিং করে, এটি স্কিনকে টাইট করে তোলে এবং স্কিনে ব্রাইট ভাব এনে দেয়। 
মাস্কটি তৈরি করবেন যেভাবে-
- হাফ কাপ পরিমান বিট রুট নিন। এটি ছোট টুকরা করে কেটে নিন।
- এবার ব্লেন্ডারে এটি ব্লেন্ড করে নিয়ে জুসটা ছেঁকে নিন।
- এবার একটি বাটিতে ১ টেবিল চামচ বেসন, ১ টেবিল চামচ কমলার খোসার পাউডার, ১ চা চামচ দুধ, হাফ টমেটোর রস নিন।
-একই পাত্রে বিট রুটের জুসটা নিয়ে একসাথে  মিক্স করে একটি পেস্ট তৈরি করে নিন।
- দেখবেন ফেস মাস্কটি কতো সুন্দর গাঢ় পিংক কালার হয়েছে।
ব্যবহার বিধি: 
- প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
- এবার হাত অথবা ব্রাশের সাহায্যে ফেস মাস্কটি মুখের ত্বকে লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।
- এরপর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- ধুয়ে ফেলার পর অবশ্যই  টোনার এবং ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভুলবেন না।
- ফেস মাস্কটি বানিয়ে ৩-৪ দিন ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে পারবেন।
টিপস:
এই ফেস মাস্কটি এক নাগারে ৪ দিন ব্যবহার করবেন। এরপর প্রতি সপ্তাহে ১/২ দিন ব্যবহার করবেন। ফলাফল নিজের চোখেই দেখতে পাবেন।  
তবে একটা কথা বলে দেই, এটা কোনো রঙ ফর্সাকারী মাস্ক নয়। এটি শুধুমাত্র আপনার হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
ছবি – হোমমেডরেমিডি ডট কম
লিখেছেন –  জান্নাতুল মৌ